সংখ্যালঘু নিপীড়নের ধারা আর কতো দিন অব্যাহত থাকবে বিশ্ব জুড়ে!!

ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমান হোক,পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দু অথবা সৌদী-আরবের সংখ্যালঘু শিয়া হোক, বা মায়ানমারের রোহিঙ্গা মোটামুটি গোটা পৃথিবী জুড়েই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বিদ্বেষ বা নিপীড়ন এখন রোজকার ঘটনা |কোথাও বা বিচার ব্যাবস্থার নামে সংখ্যালঘু মানুষদের বিনা অপরাধে বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে তা চলছে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতে।এমনকি উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করা আমেরিকার বিভিন্ন আঙ্গিকের সংখ্যালঘু মানুষকেদেরকেও রেয়াত করা হচ্ছে না।

“আজামো”,এক গরিব কৃষক পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাঁকে ১৭ বছর বয়সে খুনের আসামী প্রমাণ করে,আমেরিকার আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেয়।জীবনের গুরুত্বপূর্ণ 40 টি বছর জেলে কাটিয়ে,গত সপ্তাহে তাকে বেকসুর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।আদালতের রায়ে আপাতত তিনি বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেন।আজামো সংখ্যালঘু নিগ্রো।এটাই সম্ভবত তার প্রধান অপরাধ।

আজামো ভরা আদালতে,বিচারপতির পাশে বসেছিলেন। তার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। বিচারপতি একটি সাদা কাগজ এবং পেন এগিয়ে দিয়ে বলেন “আপনার জীবন থেকে রাষ্ট্রশক্তি মূল্যবান ৪০ বছর কেড়ে নিয়েছে।এর দায় সরকার এড়াতে পারবে না।বিগত ৪০ বছরের ক্ষতিপূরণ হিসাবে আপনি যতো ডলার চাইবেন,সরকার দিতে বাধ্য থাকবে।আপনি লিখুন !আজামো কয়েক কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বসতে পারতেন।সরকার হয়তো দিতে বাধ্য হতো।

কিন্তু,তিনি সাদা কাগজে কয়েকটি শব্দ লিখে দিলেন …”বিচারপতি মহোদয়,আইন পরিবর্তন করুন। যাতে আর কোনো আজামো-কে,বিনা অপরাধে জেল খাটতে যেন না হয়!”আজামো ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন।গোটা আদালত তখন নিশ্চুপ।সবার চোখ বেয়ে নেমে এলো অশ্রুকণা।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে.বহু আজামো রয়েছেন,যারা বিনা অপরাধে শাস্তি ভোগ করে চলেছেন।কেউ কেউ রাষ্ট্র যন্ত্রের পেশি শক্তির অপব্যবহার সহ্য করতে না পেরে, অকালে মৃত্যুর কোলো ঢলে পড়েছেন।কেউ কেউ আবার নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ,বন্দী অবস্থায় কাটিয়ে দিয়েছেন।এইসব নিরপরাধ মানুষ বেকসুর খালাস পেলেও, যাদের ভুলের কারণে এরা শাস্তি পেয়ে থাকেন,তাদের কোনো শাস্তি হয় না।যেমন শাস্তি পেলেন না,ডাঃ কাফিল খানকে “রাসুকা” মামলায় জড়িয়ে দেওয়া,আলিগড়ের এস-পি সাহেব। কদিন পরেই হয়তো ওনার পদন্নতি দেখা যাবে!

দিকে দিকে ভাষা – বর্ণ – ধর্ম বহু ক্ষেত্রের সংখ্যালঘুরা শোষিত বঞ্চিত নীপীড়িত। বিশ্বজুড়ে এই অপধারা অব্যাহত থাকবে আর কত দিন। সব কিছুর উর্ধে সবাই ‘মানুষ’ এটাই হোক পরিচয়। আগামীর পৃথিবী কি পারবে বিভেদের বিষ কে বৈচিত্রের সবুজ আভা দিয়ে মুছে দিতে..

WhatsApp chat
error: