বিমল গুরুংদের সাথে কোনপ্রকার সমঝোতা নয়;কলকাতায় এসে সাফ জানালেন বিনয় তামাং

প্রতিফলক নিউজ ব্যুরো:রাষ্ট্রদ্রোহে আইনে অভিযুক্ত পাহাড়ের একদা একছত্রপতি বিমল গুরুংয়ের কিছু দিন পূর্বে হঠাৎ উদয় হয় কলকাতায়। দীর্ঘ তিন বছর আত্মগোপন করে থাকার পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি। তারপর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। সাবেক বিমল গুরুং কে সরিয়ে এখন পাহাড়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিনয় তামাং অনিত থাপা গোষ্ঠী। কিন্তু পুনরায় সশরীরে গুরুং এর প্রত্যাবর্তন চিন্তায় ফেলেছে তামাং গোষ্ঠীর।পাহাড়ে গুরুংয়ের জন্য কোনো প্রকার জমি ছাড়তে নারাজ কলকাতায় এসে তা স্পষ্ট করে জানালেন বিনয় তামাং ।

প্রকাশ্যে আসার পর বিমল গুরুং ঘোষণা করেন,কথা রাখেননি মোদি শাহরা ।তাই তারা এনডিএ জোট ছাড়ছেন এবং আগামী ২০২১ বিধানসভায় তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়াই করবেন। বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চান তিনি। কিন্তু রাজা ইতিমধ্যেই সিংহাসন হারিয়েছেন। ক্ষমতার রাস হাতে থাকা ব্যক্তিরা মেনে নিতে পারছেন না তার ফিরে আসাকে। গুরুং এর পক্ষে বা বিপক্ষে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বিক্ষোভ শুরু হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সমঝোতার জন্য বিনয় তামাং কে নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী ।

গতকাল কলকাতায় এসে বিনয় তামাং স্পষ্ট করে দেন, পাহাড়ে গুরুংয়ের আর কোনও জায়গা নেই। তিনি বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা উচিত। বিমল গুরুং বা তার সঙ্গীরা আমাদের সিলেবাসে নেই। তারা কোন সাবজেক্ট বা অবজেক্ট নয়।”

পাহাড়ে শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আলোচনা করতে কলকাতায় এসেছি দাবি করে তিনি আরো বলেন, “উত্তরবঙ্গের পাহাড় বা সমতলের মানুষ বিমল গুরুং কে আর চান না। বিমল গুরুং বা তার টিমের সঙ্গে আমরা কোনও সমঝতায় রাজি নই।গত তিন বছর ধরে পাহাড় শান্তিতেই আছে। তাই নতুন করে আবার অশান্তি সৃষ্টি হোক তা আমরা চাই না।”

আগামীকাল বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। কিন্তু তার আগেই তামাং গোষ্ঠীর ছাড় না দেওয়ার মনোভাব নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে। মুখোমুখি দুই গোষ্ঠী কে মূখ্যমন্ত্রী কিভাবে সমঝোতায় রাজি করেন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

WhatsApp chat
error: