স্বরূপনগরের যুবকদের উদ্যোগে পরিবার খুঁজে পেল মানসিক ভারসাম্যহীন বিহারের যুবক

প্রতিফলক নিউজ ব্যুরো:উত্তর ২৪পরগনা জেলার স্বরুপ নগর থানার বিথারি গ্রামের কিছু যুবকের মিলিত উদ্যোগে উদ্ধার হলেন এক ভবঘুরে ব্যক্তি। দেশের রাজনৈতিক নেতারা যখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত তখন জাতপাত কে উপেক্ষা করে নজিরবিহীন মানবিক ঘটনার দৃষ্টান্ত রাখলেন গ্রামের কিছু যুবক।
বিগত ২/১২/২০২০ বুধবার, গ্রামের রাস্তায় বিবস্ত্র অবস্থায় মানষিক ভারসাম্যহীন বছর ৩৫ সের এক ভবঘুরে কে ঘুরতে দেখেন কিছু যুবক, তার পরিচয় জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেনি ওই ভবঘুরে। যুবকেরা তাকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখে খাওয়া-দাওয়া ও স্নান করিয়ে ঘুমাতে দেয়। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করায় শুধুমাত্র নিজের থানার নাম বলতে পারেন।
অবশেষে গুগল সার্চ করে বিহারের বাড় থানার ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হলে থানার প্রশাসন এলাকায় সন্ধান করে যানতে পারেন বাড় থানার অন্তর্গত কাজিচক এলাকার প্রায় চার মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ছোটন যাদব নামের এক ব্যক্তি। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে বৃদ্ধা মা ও তার দুই সন্তানকে রেখে নিখোঁজ হয়েছে।ঘটনার পরদিন বাড় থানার প্রশাসন তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভবঘুরেকে সনাক্ত করেন। তাকে দেখে কেঁদে ওঠে তার বৃদ্ধা মা ও সন্তানরা। এ ঘটনায় যুবকদের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালো গ্রামবাসী সকলেই। প্রায় দুসপ্তাহ ধরে তার সুশ্রুসা, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে যুবকেরা। ভবঘুরে ছোটন যাদব পরবর্তীতে আরোও জানান, প্রায় ৯০দিনের অধিক পায়ে হেটেই পৌঁছেছে এই এলাকায়। এদিকে গ্রামের যুবকরা নিজেদের টাকা দিয়ে গ্রামেরই এক যুবক ইলিয়াস সরদারে সাথে বিহারের বাড় থানার প্রশাসনের সাহায্যে কাজিচক এলাকায় ভবঘুরেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। আজ সকাল ৫ঃ৩০ মিনিটে নাগাদ মানষিক বিপর্যস্ত ছোটন যাদব কে নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছায় ওই যুবক। বৃদ্ধা মা দরজা খুলতেই ছেলেকে দেখে জড়িয়ে ধরে অনবরত কাঁদতে শুরু করেন। বৃদ্ধা বলেন, আমার ছেলেকে কখনো ফিরে পাব তা ভাবিনি, যাদের সহোযোগিতায় আমি ছেলেকে ফিরে পেয়েছি তাদের কৃতজ্ঞতা ভুলার নয় । এই মহৎ কাজের জন্য বিহারের বাড় থানার প্রশাসন সনজিত কুমার বলেন, “আজও পৃথিবীতে মানুষের মনুষ্যত্ব জীবিত যার কারণে পৃথিবী আজও টিকে আছে “।পাশাপাশি কাজিচকের গ্রামবাসী বৃন্দ, আধিকারিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যুবকদের মহৎকর্মকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এদিকে মানবিক দৃষ্টান্ত কারি যুবকরা বলেন, অল্প দিনর অতিথি হলেও যাদব ভাইয়ের প্রতি বড্ডো মায়ায় পড়ে গিয়েছি। দুঃখ্য জনক পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে মানষিক ভারসাম্যহীন হলেও সে তার মায়েরই সন্তান।
আমাদের প্রয়াস ক্ষুদ্র হলেও মানুষ হয়ে মানুষের কোন উপকার করতে পেরে আমরা অত্যান্ত খুশি এবং আনন্দিত।

WhatsApp chat
error: