একটি আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনার স্মৃতি

খন্দকার মাহমুদুল হাসানঃ এটি খুব আনন্দের বিষয় যে, আমার প্রিয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেলাম। সে হলো শিশুসাহিত্য, সে হলো ঊনবিংশ শতকের বাংলা শিশুসাহিত্য। পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল গার্লস কলেজের ‘ছন্দে-কথায় জীবনের রঙ-বেরঙ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করবার সময় বুঝতে পারছিলাম, অনেক গবেষক ও উচ্চতর পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী আগ্রহের সঙ্গে এই অনলাইন আলোচনায় যুক্ত আছেন। তাঁরা আমার কথা শুনছেন।

ঐতিহ্যের কথা বলা আনন্দের, ঐতিহ্যের কথা শোনাও আনন্দের। তা যদি হয় সাহিত্যের ঐতিহ্য তাহলে তো কথাই নেই।

শ্রোতারা শিক্ষিত ও পরিপক্ক হলে আলোচকের জন্যে বিষয়টিকে উপস্থাপন করা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়। সেই স্বাচ্ছন্দ্য আমি বোধ করেছি। অনেক অধ্যাপক-গবেষক-শিক্ষক যে গভীর আগ্রহের সঙ্গে আলোচনাটি শুনছিলেন তা তো আমি দেখতেই পাচ্ছিলাম, কারণ তারা তাদের মতামত দিচ্ছিলেন। সেইসব মতামতও আমার পর্দায় দেখার সুযোগ হচ্ছিল। তবে আলোচনার শেষে তাদের অনেকেই যে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করছিলেন সে অংশটি চিত্তাকর্ষক ছিল। বিশেষ বিষয়ে পর্যাপ্ত পূর্বপাঠ ছাড়া এমন জ্ঞানসম্পন্ন গবেষক-শ্রোতা-দর্শক হয়ে ওঠা যায় না। বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নগুলোর আমি তাই প্রশংসা করি। আমি এই আলোচনায় অংশ গ্রহণ করে আনন্দিত। আসানসোল গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান নাফিসা পারভিন খানকে ধন্যবাদ দিই এমন একটি জ্ঞানচর্চার বিষয়ের সঙ্গে আমাকে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায়।

আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শ্রী প্রচেত গুপ্ত। তিনি বলেছেন ‘সাম্প্রতিক কথাসাহিত্যের গতিপ্রকৃতি’ বিষয়ে। তাঁর আলোচনাও আমি শুনেছি। খুব স্পষ্ট করে তিনি তাঁর কথা বলেছেন। ভালো লেগেছে আমার কাছে তা। সবশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন পর্বটিও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক ছিল। এটি আমাকে তৃপ্ত করেছে।

এই কথাগুলো বলতে পেরে খুবই আনন্দ বোধ করছি। আশা করছি এমন আলোচনা আরও হবে এবং জ্ঞানান্বেষী গবেষক-শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা এ থেকে উপকৃত হতে থাকবেন।

১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিনের মুখ্য আলোচকদের আলোচনা এবং আলোচনাশেষে প্রবন্ধ পাঠও খুব হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল। ভারতের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় এদিন বক্তব্য রাখেন ‘ভারতীয় লোককথা : জীবনের নানা রঙ’ নিয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা করেছেন। মনোমুগ্ধকর আলোচনা করে তিনি সকলের মন জয় করে নিলেন। বাংলাদেশের কবি-গবেষক-চিত্রকর অধ্যাপক পাবলো শাহি ‘বাংলা কবিতা : চর্যাপদ থেকে সমকাল’ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। শ্রোতারা আগ্রহের সঙ্গে বক্তৃতাগুলো শোনার পর খুবই অংশগ্রহণমূলক প্রবন্ধ পাঠ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষী গবেষকেরা এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী খন্দকার হাফসা মাহমুদ এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন। সবমিলিয়ে একটি সফল আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনা উপহার দিতে সক্ষম হয় আসানসোল গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগ।

সবশেষে এই ওয়েবিনারের কার্যনির্বাহক সমিতির আহ্বায়ক ও আসানসোল গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান নাফিসা পারভিন যে সমাপনী বক্তব্য রাখেন তা’ও ছিল অত্যন্ত সৌজন্যপূর্ণ। তিনি দু’দিনের আলোচনার মুখ্য আলোচক কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত (ভারত), শিশুসাহিত্যিক ও গবেষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান (বাংলাদেশ), কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় (ভারত) ও কবি, প্রাবন্ধিক পাবলো শাহি (বাংলাদেশ)-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। আয়োজনের সাফল্যের জন্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ডক্টর সন্দীপ কুমার ঘটক, আই.কিউ.এ.সি. সমন্বয়ক ও সহযোগী পৃষ্ঠপোষক ডক্টর শ্যামল শেঠ, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যা ডক্টর শাশ্বতী মজুমদার (বাংলা বিভাগ), ডক্টর আভা মল্লিক (বাংলা বিভাগ), রোহিণী কর (ইতিহাস বিভাগ), ডক্টর মধুমিতা জমিদার (দর্শন বিভাগ), কার্যকরী সদস্য ডক্টর মাল্যবান চট্টোপাধ্যায় (ইতিহাস বিভাগ), আল্পনা বন্দ্যোপাধ্যায় (বাংলা বিভাগ),দেব আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (বাংলা বিভাগ), ভূতনাথ চ্যাটার্জী (বাংলা বিভাগ)- কে ধন্যবাদ জানান। যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছাড়া এই আলোচনা কিছুতেই সবার কাছে পৌঁছোতে পারত না সেই প্রাযুক্তিক সহায়তা দানকারী ডক্টর সুরজিৎ জানা (রসায়ন বিভাগ), ডক্টর প্রদীপ ঘাঁটী (কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ) ও শুভাশীষ ঘোষ (কম্পিউটার অ্যাপলিকেশন বিভাগ) -কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। যে ছাত্রীরা আন্তরিক চেষ্টা ও শ্রমের মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটাকে সফল করে তুলেছে তাদের নামোল্লেখও তিনি করেন। সবশেষে আবারও সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই দ্বি-দিবসীয় আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনাসভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

 

 

WhatsApp chat
error: