আমেরিকাকে লক্ষ্য করে চিনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, দক্ষিণ চিন সাগরে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পরিস্থিতি

নিজস্ব সংবাদদাতা প্রতিফলক ডেস্কঃ একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি আগ্রাসী মনোভাব, অন্যদিকে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চল চিনের নিশানায়। আরও ভাল করে বলতে গেলে দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের আসল ‘নিশানা’ আমেরিকা! তাই আধিপত্য এবং সামরিক শক্তি জাহির করতে বুধবার রাতে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় অন্তত দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চিন। যদিও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে বেজিংয়ের এই পদক্ষেপে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পেন্টাগন।

ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কথা স্বীকার করে চিনের সরকারি সংবাদপত্র ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানায়, ডংফেং সিরিজের মাঝারি পাল্লার ডিএফ-২১ডি এবং দূরপাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী ডিএফ-২৬বি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। কুইংঘাই এবং ঝিজিয়াং অঞ্চল থেকে দু’টি করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অদূরের সমুদ্রে। ‘পরিকল্পিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা’ বলে জানিয়েছেন চিনের প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র উ কিয়ান।

যদিও চিনা সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর দাবি, ওই এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী জাহাজের তৎপরতায় বাধা দিতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের পাল্টা অভিযোগ, বেআইনি ভাবে দক্ষিণ চিন সাগরে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম করতে গিয়ে চিন অন্য কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করছে। দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চল ঘিরে চিনের এই সামরিক অনুশীলন সেখানে উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নীতির পরিপন্থী বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ব্যাপারে চিন যতই যুক্তি দিক, কূটনীতিকদের মতে, মার্কিন নৌবহরকে চাপে রাখতেই চিনের এই পদক্ষেপ। কেননা দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সম্প্রতি তাইওয়ান এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে চিন। তাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য চিনা হামলা ঠেকাতে মার্কিন নৌবহর মোতায়েন হয়েছে সেখানে। ফলে সেই নৌবহর লক্ষ্য করে চিনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যমূলক।

WhatsApp chat
error: