কারবাখ ছাড়ছে আর্মেনীয় সেনারা ; রাশিয়ার মধ্যস্থতায় লাভজনক চুক্তি আজারবাইজানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ককেশাস অঞ্চলের দুটি দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি কার্যকর হতে চলেছে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মাঝে চুক্তি সম্পন্ন হল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এই চুক্তিকে তার এবং তার জনগণের জন্য ‘খুবই বেদনাদায়ক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত কিন্তু ১৯৯৪ সাল থেকে জাতিগত আর্মেনিয়রা এটা নিয়ন্ত্রন করে আসছে ।সে বছর একটি যুদ্ধবিরতি হলেও কোনো চুক্তি ছিলো না।

যুদ্ধ বন্ধে সেপ্টেম্বরে লড়াই শুরুর পর থেকে রাশিয়া সহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রচেষ্টায় অনেকবার অস্ত্রবিরতি হলেও সেগুলো সব ব্যর্থই হয়েছে।মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে শান্তি চুক্তিটি।

নতুন চুক্তির আওতায় আজারবাইজানের হাতেই থাকবে নাগোর্নো কারাবাখ। আর্মেনিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিকটবর্তী আরও কিছু এলাকা থেকে সরে যাবে।

অনলাইনে এক টেলিভিশন ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন রাশিয়ার শান্তিরক্ষীরা ফ্রন্টলাইনে টহল দেবে।দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন ১ হাজার ৯৬০ জন সেনা মোতায়েন করবে রাশিয়া।শান্তিরক্ষা প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার পাশাপাশি তুরস্কও অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহ্যাম আলিয়েভ । পুতিন বলেছেন, সমঝোতার আওতায় বন্দী বিনিময়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং একই সাথে সব অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সংযোগে উন্মুক্ত হবে।

সমঝোতাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে এবং আর্মেনিয়া তা মেনে নিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ।

আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট পাশিনিয়ান জানিয়েছেন, “এটা কোনো বিজয় নয় কিন্তু নিজেকে পরাজিত না ভাবলে এখানে কোনো পরাজয় নেই,”।

তবে আর্মেনিয়ার রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়ে এ চুক্তির বিরোধিতা করেছে।এসময়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে । প্রায় দেড় মাস আগে বিরোধপূর্ণ এই অঞ্চলটি নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

তথ্যসূত্র :বিবিসি

WhatsApp chat
error: